আমরা আমাদের মুখ ও শরীরের সৌন্দর্য ধরে রাখতে কত কিছুই না করি! দামি ফেসওয়াশ, নামিদামি ব্যান্ডের সিরাম, ময়েশ্চারাইজার থেকে শুরু করে নানা ধরনের ঘরোয়া ফেসপ্যাক ব্যবহার করি। কিন্তু আপনি যদি আমাকে প্রশ্ন করেন, স্কিন কেয়ার বা ত্বকের যত্ন নেওয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য ধাপ কোনটি? তবে এক বাক্যে এর উত্তর হবে, সানস্ক্রিন ব্যবহার করা। আপনি যদি দিনের পর দিন হাজার টাকার স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করেন কিন্তু দিনের বেলায় বাইরে যাওয়ার সময় একটি ভালো মানের সানস্ক্রিন ব্যবহার না করেন, তবে আপনার পুরো পরিশ্রমটাই বৃথা। সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি বা আলট্রাভায়োলেট (UV) রে আমাদের ত্বকের যে পরিমাণ ক্ষতি করে, তা অন্য কোনো কিছু দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়।
আমাদের দেশের আবহাওয়া অধিকাংশ সময়ই বেশ গরম এবং রৌদ্রোজ্জ্বল থাকে। এই তীব্র রোদ থেকে ত্বককে বাঁচাতে হলে শুধুমাত্র ছাতা বা স্কার্ফ ব্যবহার করাই যথেষ্ট নয়। ত্বককে ভেতর থেকে প্রটেকশন দিতে এবং ত্বকের যৌবন দীর্ঘস্থায়ী করতে সঠিক সানস্ক্রিন ব্যবহারের নিয়ম জানা অত্যন্ত জরুরি। অনেকেই সানস্ক্রিন কেনেন ঠিকই, কিন্তু ভুল নিয়মে ব্যবহারের কারণে তারা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পান না। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব সানস্ক্রিন কেন দরকার, আপনার ত্বকের জন্য SPF কত হওয়া উচিত, সানস্ক্রিন কখন লাগাবেন এবং রোদে ত্বক রক্ষা করার বিজ্ঞানসম্মত উপায়গুলো কী কী। চলুন, ত্বককে ভালো রাখার এই জাদুকরী স্কিনকেয়ার প্রোডাক্টটি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই।

সানস্ক্রিন কেন দরকার? (সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে বাঁচার উপায়)
অনেকেই মনে করেন সানস্ক্রিন শুধুমাত্র ত্বককে কালো হওয়া থেকে বাঁচায়। এটি সম্পূর্ণ ভুল একটি ধারণা। সানস্ক্রিন মূলত আমাদের ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি (UVA এবং UVB) থেকে রক্ষা করে একটি মজবুত ঢাল বা ব্যারিয়ার হিসেবে কাজ করে। নিচে সানস্ক্রিন কেন দরকার তার প্রধান কয়েকটি কারণ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো:
১. অকাল বার্ধক্য বা এজিং রোধ করা
সূর্যের UVA রশ্মি মেঘলা দিনেও পৃথিবীতে পৌঁছাতে পারে এবং এমনকি কাঁচ ভেদ করেও আমাদের ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে। এই রশ্মি ত্বকের কোলাজেন এবং ইলাস্টিন ফাইবারকে ভেঙে ফেলে। যার ফলে ত্বকে খুব দ্রুত বলিরেখা বা রিংকেলস দেখা দেয় এবং ত্বক বুড়িয়ে যায়। নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে ত্বকের এই অকাল বার্ধক্য রোধ করা সম্ভব।
২. সানবার্ন বা ত্বক পোড়া থেকে মুক্তি
তীব্র রোদে বেশিক্ষণ থাকলে ত্বকে লালচে ভাব দেখা দেয় এবং ত্বক জ্বালাপোড়া করে, যাকে আমরা সানবার্ন বলি। এটি মূলত UVB রশ্মির কারণে হয়ে থাকে। সানস্ক্রিন এই ক্ষতিকর রশ্মিকে আটকে দেয় এবং ত্বককে পুড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে।
৩. স্কিন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানো
দীর্ঘদিন ধরে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকে সরাসরি পড়লে স্কিন ক্যান্সার বা মেলানোমার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহারের ফলে ত্বকের কোষগুলো সুরক্ষিত থাকে এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়।
৪. হাইপারপিগমেন্টেশন এবং মেসতা দূর করা
যাদের ত্বকে মেসতা, ব্রণের দাগ বা কালচে ছোপ (হাইপারপিগমেন্টেশন) রয়েছে, তাদের জন্য সানস্ক্রিন ওষুধের মতো কাজ করে। সূর্যের আলো মেলানিন উৎপাদন বাড়িয়ে দিয়ে দাগগুলোকে আরও গাঢ় করে দেয়। সানস্ক্রিন মেলানিনের এই অতিমাত্রায় উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে ত্বককে উজ্জ্বল রাখে।
SPF কী এবং SPF কত হলে ভালো?
সানস্ক্রিন কিনতে গেলে সবচেয়ে বেশি যে শব্দটি আমাদের চোখে পড়ে তা হলো SPF। এর পূর্ণরূপ হলো Sun Protection Factor। এটি মূলত একটি পরিমাপক যা নির্দেশ করে সানস্ক্রিনটি আপনার ত্বককে সূর্যের UVB রশ্মি থেকে কতক্ষণ বা কতটা ভালোভাবে রক্ষা করতে পারবে।
বাজারে সাধারণত SPF 15, SPF 30 এবং SPF 50 এর সানস্ক্রিন বেশি পাওয়া যায়।
- SPF 15: এটি সূর্যের প্রায় ৯৩% ক্ষতিকর রশ্মি আটকে দিতে পারে।
- SPF 30: এটি সূর্যের প্রায় ৯৭% অতিবেগুনি রশ্মি ব্লক করতে সক্ষম। সাধারণ দৈনন্দিন কাজের জন্য এটি আদর্শ।
- SPF 50: এটি প্রায় ৯৮% রশ্মি ব্লক করে। যারা কড়া রোদে বেশিক্ষণ কাজ করেন বা সমুদ্রসৈকতে যান, তাদের জন্য এটি সেরা।
আমাদের দেশের তীব্র রোদ এবং আবহাওয়ার কথা বিবেচনা করলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা সবসময় SPF 30 থেকে SPF 50 মাত্রার ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন ব্যবহারের পরামর্শ দেন। ব্রড-স্পেকট্রাম বলতে বোঝায় যে সানস্ক্রিনটি UVA এবং UVB, উভয় রশ্মি থেকেই ত্বককে রক্ষা করতে সক্ষম।
সঠিক সানস্ক্রিন ব্যবহারের নিয়ম
একটি ভালো মানের সানস্ক্রিন কিনে এনে মুখে একটু ঘষে নিলেই কাজ হবে না। এটি সঠিকভাবে ত্বকে বসাতে হবে। সঠিক সানস্ক্রিন ব্যবহারের নিয়ম নিচে ধাপে ধাপে আলোচনা করা হলো:
১. সঠিক পরিমাণ: 'টু-ফিঙ্গার রুল' (Two-Finger Rule)
সানস্ক্রিন ব্যবহারের সবচেয়ে বড় নিয়ম হলো সঠিক পরিমাণে ব্যবহার করা। অনেকেই খুব সামান্য পরিমাণ সানস্ক্রিন মুখে লাগান, যা কোনো কাজেই আসে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখের এবং গলার ত্বকের জন্য 'টু-ফিঙ্গার রুল' বা দুই আঙুল পরিমাণ সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। তর্জনী এবং মধ্যমা আঙুলের পুরোটা জুড়ে সানস্ক্রিন নিয়ে তা মুখে ও গলায় সমানভাবে ব্লেন্ড করে লাগাতে হবে।
২. শুধু মুখ নয়, গলা ও হাত-পায়েও লাগান
আমরা শুধু মুখেই সানস্ক্রিন লাগাই, কিন্তু কান, গলা, ঘাড় এবং হাত-পায়ের খোলা অংশে লাগাতে ভুলে যাই। শরীরের যে অংশগুলো রোদের সংস্পর্শে আসে, তার সবখানেই সানস্ক্রিন লাগানো বাধ্যতামূলক।
৩. ত্বকে শুষে নেওয়ার সময় দেওয়া
সানস্ক্রিন লাগানোর পর তা ত্বকে ভালোভাবে বসতে বা সেট হতে কিছুটা সময় লাগে। তাই সানস্ক্রিন লাগানোর সাথে সাথেই রোদে বের হওয়া উচিত নয়।
সানস্ক্রিন কখন লাগাবেন?
সানস্ক্রিন কখন লাগাবেন এটি নিয়ে অনেকের মাঝেই ধোঁয়াশা রয়েছে। দিনের বেলায় আপনার স্কিন কেয়ার রুটিনের একেবারে শেষ ধাপ হলো সানস্ক্রিন। অর্থাৎ, সকালে ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধোয়ার পর টোনার, সিরাম এবং ময়েশ্চারাইজার লাগানোর পর সবার শেষে সানস্ক্রিন লাগাতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রোদে বা বাইরে যাওয়ার অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে সানস্ক্রিন লাগাতে হবে। এই ২০ মিনিট সময় দিলে সানস্ক্রিনটি ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে সুরক্ষার একটি স্তর তৈরি করার সুযোগ পায়।
ত্বকের ধরন অনুযায়ী সানস্ক্রিন বাছাই করা
সবার ত্বকের ধরন এক নয়, তাই সবার জন্য একই সানস্ক্রিন কাজ করবে না। ভুল সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে ত্বকে ব্রণ হতে পারে। তাই আপনার ত্বকের ধরন অনুযায়ী পণ্য নির্বাচন করতে হবে:
- তৈলাক্ত বা অয়েলি স্কিনের জন্য: তৈলাক্ত ত্বকে ক্রিম বা ভারী সানস্ক্রিন দিলে মুখ আরও তেলতেলে হয়ে যায়। তাই এই ধরনের ত্বকের জন্য ম্যাট ফিনিশ (Matte finish), অয়েল-ফ্রি বা জেল-বেসড (Gel-based) সানস্ক্রিন সবচেয়ে ভালো কাজ করে।
- শুষ্ক বা ড্রাই স্কিনের জন্য: শুষ্ক ত্বকের প্রয়োজন আর্দ্রতা। তাই ক্রিম বা লোশন বেসড সানস্ক্রিন, যেগুলোতে হায়ালুরনিক এসিড বা গ্লিসারিন রয়েছে, সেগুলো ব্যবহার করলে ত্বক নরম থাকে এবং সুরক্ষিতও থাকে।
- সেনসিটিভ স্কিনের জন্য: যাদের ত্বকে খুব দ্রুত জ্বালাপোড়া বা এলার্জি হয়, তাদের জন্য ফিজিক্যাল বা মিনারেল সানস্ক্রিন (যাতে জিংক অক্সাইড বা টাইটানিয়াম ডাই অক্সাইড থাকে) সবচেয়ে নিরাপদ।
রোদে ত্বক রক্ষা এবং সামগ্রিক ত্বকের যত্ন
শুধুমাত্র সানস্ক্রিন লাগিয়েই নিশ্চিন্ত হওয়া ঠিক নয়। গ্রীষ্মের কড়া রোদে সামগ্রিক ত্বকের যত্ন নিশ্চিত করতে এবং সঠিকভাবে রোদে ত্বক রক্ষা করতে আরও কিছু সতর্কতা মেনে চলতে হবে:
- সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সূর্যের তেজ সবচেয়ে বেশি থাকে। এ সময় খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
- বাইরে গেলে ছাতা ব্যবহার করুন এবং চোখকে সুরক্ষিত রাখতে ইউভি-প্রোটেক্টেড রোদচশমা বা সানগ্লাস ব্যবহার করুন।
- শরীর হাইড্রেটেড রাখতে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করুন। ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে অনেক পানি বেরিয়ে যায়, যা ত্বকের ক্ষতি করে।
- বাইরে থেকে ফিরে অবশ্যই ডাবল ক্লিনজিং পদ্ধতিতে (প্রথমে অয়েল বা মাইসেলার ওয়াটার দিয়ে, তারপর ফেসওয়াশ দিয়ে) মুখ পরিষ্কার করে ফেলবেন। সানস্ক্রিন ভালোভাবে পরিষ্কার না করলে ত্বকের লোমকূপ বন্ধ হয়ে ব্রণ হতে পারে।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী(FAQ)
১. সানস্ক্রিন ব্যবহারের নিয়ম কি?
সঠিক সানস্ক্রিন ব্যবহারের নিয়ম হলো বাইরে যাওয়ার ১৫-২০ মিনিট আগে পরিষ্কার ত্বকে পরিমাণমতো (টু-ফিঙ্গার রুল অনুযায়ী) সানস্ক্রিন লাগানো। এটি দিনের স্কিন কেয়ার রুটিনের একদম শেষ ধাপে ব্যবহার করতে হয় এবং মুখের পাশাপাশি গলা, ঘাড় ও হাত-পায়েও সমানভাবে লাগাতে হয়।
২. সানস্ক্রিন কেন দরকার?
সূর্যের ক্ষতিকর আলট্রাভায়োলেট বা অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে বাঁচাতে সানস্ক্রিন কেন দরকার তা বলে শেষ করা যাবে না। এটি ত্বকের অকাল বার্ধক্য রোধ করে, মেসতা বা কালো দাগ পড়তে দেয় না, সানবার্ন থেকে বাঁচায় এবং সবচেয়ে বড় কথা, স্কিন ক্যান্সারের ঝুঁকি চরমভাবে হ্রাস করে।
৩. SPF কত হলে ভালো?
সাধারণত দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য SPF ৩০ থেকে ৫০ মাত্রার সানস্ক্রিন সবচেয়ে ভালো। আমাদের দেশের আবহাওয়ায় SPF 50 মাত্রার ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন ব্যবহার করা সবচেয়ে বেশি নিরাপদ, যা ত্বককে ৯৮% পর্যন্ত অতিবেগুনি রশ্মি থেকে রক্ষা করতে পারে।
৪. ঘরে থাকলেও সানস্ক্রিন লাগাতে হয় কি?
হ্যাঁ, ঘরে থাকলেও সানস্ক্রিন লাগাতে হয় কি- এই প্রশ্নের উত্তর হলো, অবশ্যই লাগাতে হয়। সূর্যের ক্ষতিকর UVA রশ্মি জানালার কাঁচ ভেদ করে ঘরের ভেতরেও প্রবেশ করতে পারে। এছাড়া রান্নাঘরের চুলার তাপ এবং মোবাইল বা ল্যাপটপের ব্লু-লাইট থেকেও ত্বককে বাঁচাতে ঘরে দিনের বেলায় সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত।
৫. সানস্ক্রিন কখন লাগাবেন?
সকালে মুখ পরিষ্কার করে ময়েশ্চারাইজার লাগানোর পর সানস্ক্রিন কখন লাগাবেন তা অনেকেই বুঝতে পারেন না। মূলত বাইরে রোদে যাওয়ার ঠিক ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে সানস্ক্রিন লাগাতে হবে। এতে ক্রিমটি ত্বকে বসে সুরক্ষার স্তর তৈরি করার পর্যাপ্ত সময় পায়।
৬. তৈলাক্ত ত্বকের জন্য কোন সানস্ক্রিন ভালো?
যাদের মুখ খুব ঘামে বা তেলতেলে থাকে, তাদের মনে প্রশ্ন জাগে তৈলাক্ত ত্বকের জন্য কোন সানস্ক্রিন ভালো? তৈলাক্ত ত্বকের জন্য সবসময় অয়েল-ফ্রি, নন-কমেডোজেনিক এবং জেল-বেসড (Gel-based) বা ম্যাট ফিনিশ সানস্ক্রিন সবচেয়ে ভালো কাজ করে। এতে মুখে ব্রণ হওয়ার ঝুঁকি থাকে না।
৭. শুষ্ক ত্বকের জন্য কোন সানস্ক্রিন ভালো?
শুষ্ক ত্বক খুব দ্রুত আর্দ্রতা হারায়। তাই শুষ্ক ত্বকের জন্য কোন সানস্ক্রিন ভালো তা যাচাই করে কেনা উচিত। শুষ্ক ত্বকের অধিকারীদের জন্য ক্রিম-বেসড বা লোশন টাইপের হাইড্রেটিং সানস্ক্রিন বেশি উপকারী, যেগুলোতে সিরামাইড বা হায়ালুরনিক এসিড থাকে।
৮. সানস্ক্রিন কত ঘণ্টা পর পর লাগাতে হয়?
শুধুমাত্র সকালে একবার সানস্ক্রিন লাগালেই সারাদিন সুরক্ষা পাওয়া যায় না। সানস্ক্রিন কত ঘণ্টা পর পর লাগাতে হয়? এর উত্তর হলো, প্রতি ২ থেকে ৩ ঘণ্টা পর পর সানস্ক্রিন রি-এপ্লাই বা পুনরায় লাগাতে হয়। বিশেষ করে যদি আপনি বাইরে কড়া রোদে থাকেন বা অতিরিক্ত ঘামেন অথবা পানিতে গোসল করেন, তবে অবশ্যই কিছুক্ষণ পর পর সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে।
৯. সানস্ক্রিন না লাগালে কি হয়?
অনেকেই জানতে চান সানস্ক্রিন না লাগালে কি হয়? দীর্ঘদিন সানস্ক্রিন ব্যবহার না করলে ত্বক খুব দ্রুত কালচে হয়ে যায়, মুখে মেসতা ও বলিরেখা দেখা দেয় এবং ত্বক তার সতেজতা ও টানটান ভাব হারিয়ে ফেলে। সবচেয়ে মারাত্মক ব্যাপার হলো, এতে স্কিন ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।
১০. মেকআপের আগে সানস্ক্রিন লাগানো যায় কি?
হ্যাঁ, মেকআপের আগে সানস্ক্রিন লাগানো যায় কি- এটি অনেকেরই সাধারণ প্রশ্ন। মেকআপের আগে অবশ্যই সানস্ক্রিন লাগাতে হবে। প্রাইমার বা ফাউন্ডেশন লাগানোর আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার করে ২-৩ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে যাতে তা ত্বকে ভালোভাবে সেট হয়ে যায়। মেকআপের ওপর দিয়ে রি-এপ্লাই করার জন্য বর্তমানে সানস্ক্রিন স্প্রে বা সানস্ক্রিন স্টিকও বাজারে পাওয়া যায়।
আর্টিকেলের শেষ কথা
আর্টিকেলটির শেষে এসে এ কথা নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে, স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ও সুন্দর ত্বক পাওয়ার জন্য সানস্ক্রিনের কোনো বিকল্প নেই। আপনি যত ভালো ডায়েট করুন বা দামি প্রোডাক্ট মাখুন না কেন, সূর্য থেকে ত্বককে বাঁচাতে না পারলে সব চেষ্টাই বিফলে যাবে। আশা করি, উপরের আলোচনা থেকে আপনি সঠিক সানস্ক্রিন ব্যবহারের নিয়ম এবং আপনার ত্বকের জন্য উপযুক্ত প্রোডাক্টটি কীভাবে বাছাই করবেন, সে সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পেয়েছেন। আজ থেকেই আপনার প্রাত্যহিক স্কিন কেয়ার রুটিনে একটি ভালো মানের ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন যুক্ত করুন। মনে রাখবেন, নিয়মিত সঠিক ত্বকের যত্ন এবং সুরক্ষাই পারে বয়সের ছাপকে দূরে সরিয়ে আপনাকে একটি চিরসবুজ ও লাবণ্যময় ত্বক উপহার দিতে।
লাইফস্টাইল কোয়েরির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url